হরমুজ প্রণালিতে ইরানকে টোল দিতে নারাজ ৬ আরব দেশ
হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চালাতে ইরানকে কোনো ধরনের টোল বা অতিরিক্ত ফি দিতে রাজি নয় উপসাগরীয় অঞ্চলের ছয় দেশ। দেশগুলো হলো সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন ও ওমান।
এই ছয় দেশ গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) নামে একটি আঞ্চলিক জোটের সদস্য। মঙ্গলবার সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত জিসিসির বৈঠক শেষে জোটটির মহাসচিব জাসেম মোহাম্মদ আলবুদাইউই এক বিবৃতিতে এ অবস্থান জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ইরানের টোল আদায়ের উদ্যোগ আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। জিসিসির পক্ষ থেকে এ ধরনের অর্থ আদায়ের প্রস্তাবকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
জিসিসি মহাসচিব বলেন, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ইরানের একতরফা অর্থ আরোপকে সদস্যরাষ্ট্রগুলো বৈধ হিসেবে দেখছে না। তাদের মতে, এই কৌশল আঞ্চলিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।
আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করা ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথগুলোর একটি। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের বড় অংশ, বিশেষ করে তেল ও গ্যাস, এই পথ দিয়েই পরিবহন করা হয়। বিশ্বে মোট জ্বালানি বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজের ওপর নির্ভরশীল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে উত্তেজনা শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করে তেহরান। একপর্যায়ে ইরান ঘোষণা দেয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজ এই পথে চলাচল করলে তা লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
পরে ইরান জানায়, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ থাকবে না। তবে হরমুজ দিয়ে চলাচল করতে হলে জাহাজগুলোকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের অনুমতি নিতে হবে। পাশাপাশি প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য ১ ডলার হারে ফি পরিশোধের শর্তও আরোপ করা হয়।
ইরানের এই নতুন শর্ত নিয়েই মঙ্গলবারের বৈঠকে আপত্তি জানায় জিসিসি। জোটভুক্ত দেশগুলো স্পষ্ট করে বলেছে, আন্তর্জাতিক জলপথ ব্যবহারে একতরফা টোল আরোপ গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রতি / এডি / শাআ













